Dhaka 2:35 am, Sunday, 5 July 2026

বর্ষার পানিতে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে, দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর তিশীখালীর মাজার

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:40:55 pm, Saturday, 4 July 2026
  • 20 Time View

মো. ইব্রাহিম আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
বর্ষার প্রথম দফার বৃষ্টিতে চলনবিলে পানি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে প্রকৃতি ও জনজীবনে। দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ঐতিহাসিক চলনবিলে এখন ভিড় করছেন দেশ-বিদেশের পর্যটক, দর্শনার্থী এবং ভক্ত-আশেকানরা। বিশেষ করে চলনবিলের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহাসিক তিশীখালী পীর ঘাসী দেওয়ান (রহ.)-এর মাজার শরিফে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

গত শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা ১১টায় সরেজমিনে মাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারিবদ্ধভাবে বাঁধা রয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলার। মাজার চত্বরে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। লোকসমাগম বাড়ায় প্রাণ ফিরে এসেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যেও। খাবার, খেলনা ও প্রসাধন সামগ্রীর দোকানগুলোতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা।

মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে ভক্তদের ছোট-বড় দলে ভাগ হয়ে রান্না করতে দেখা যায়। মানত পূরণ উপলক্ষে কেউ খাসি, কেউবা মোরগ-মুরগি নিয়ে এসেছেন। রান্না শেষে শিন্নি হিসেবে তা উপস্থিত মানুষের মাঝে বিতরণ করছেন তারা।

রাজশাহীর পবা উপজেলা থেকে আসা স্কুলশিক্ষক বাবুল হাসান জানান, তিন মেয়ের পর ছেলে সন্তান হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় এবং পীর সাহেবের মাজারে দোয়ার উদ্দেশ্যে মানত করেছিলেন। সেই মানত পূরণ করতে প্রায় ৫০-৫২ জন স্বজনকে নিয়ে পাবলিক বাসে সাতপুকুরিয়া হয়ে ভাড়ার নৌকায় মাজারে এসেছেন। সঙ্গে এনেছেন এক জোড়া খাসি।

একইভাবে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম থেকে আসা চামেলি বেগম বলেন, মেয়ের একটি মানত থাকায় দুটি মোরগ নিয়ে এসেছেন। মাজারেই রান্না করে শিন্নি হিসেবে উপস্থিত সবার মধ্যে বিতরণ করবেন।

বর্ষার পানিতে বিল ভরে উঠতে শুরু করায় দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। তিশীখালী মাজার এলাকার চানাচুর বিক্রেতা ঝড়ু মিয়া বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে লোকজনের আনাগোনা বাড়ছে। শুক্রবার হওয়ায় ভিড় আরও বেশি ছিল এবং বিক্রিও বেশ ভালো হয়েছে।

চায়ের দোকানি চঞ্চল জানান, গত চার মাস তেমন বেচাকেনা ছিল না। এখন প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। বিলে পানি আরও বাড়লে ব্যবসা জমে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।

যাত্রী পারাপারে ব্যস্ত শ্যালো নৌকার মাঝি সুজন আলী জানান, বর্তমানে সাতপুকুরিয়া থেকে তিশীখালী মাজার পর্যন্ত জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী পারাপার করছেন। অনেক দর্শনার্থী আবার পরিবার নিয়ে ঘুরতে পুরো নৌকাই রিজার্ভ নিচ্ছেন।

সাতপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম খাঁন বলেন, তিশীখালীর মাজার চলনবিলের একটি ঐতিহাসিক ও অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। সারা বছরই এখানে মানুষ জিয়ারতের জন্য আসেন। তবে বর্ষায় বিলের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুরোপুরি বর্ষা শুরু হলে তিশীখালীর মাজারের পাশাপাশি সিংড়া পেট্রোবাংলা পয়েন্টের নৌকা ঘাটেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সরব উপস্থিতি দেখা যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের সংকট সাধারণ রোগীদের চরম ভোগান্তি। মোঃ শাহ্ আলম সরকার স্টাফ রিপোর্টার। গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের দীর্ঘদিনের নানা সংকট, হসপিটালে জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়া এক দালালচক্রের তৎপরতায় সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিদিন কয়েকশ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে এলেও সীমিত জনবল ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও স্বজনরা। ২ জুলাই রোজ বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগে সকাল থেকেই রোগীদের দীর্ঘ সারি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রোগীরা একজন চিকিৎসককে একাধিক বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শিশু, বয়স্ক ও নারী রোগীদের অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ মিলেনা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ১০টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ৫০ শতাংশ পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। ফলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাব। হাসপাতালে কোনো জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে জরুরি বিভাগ, নেবুলাইজার, অক্সিজেন সাপোর্টসহ বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের হাতপাখা দিয়ে রোগীদের বাতাস করতে দেখা যায়। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। রেহেনা আক্তার নামের এক রোগী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পাওয়া যায় না। পরে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। এতে আমাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল বাসেত বলেন, এত বড় উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ একটি জেনারেটর স্থাপন করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এদিকে হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১ জুলাই থেকে হাসপাতালের ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসেন বলেন, কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, জনবল ও জেনারেটর সংকটের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। শূন্য পদ পূরণ জেনারেটর বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জরুরি ভিত্তিতে চিঠি পাঠানো হবে। হাসপাতালের সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম, দালালচক্রের তৎপরতা বরদাশত করা হবে না। ইতোমধ্যে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও দালাল নিয়ন্ত্রণে ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকট সত্ত্বেও সীমিত জনবল নিয়ে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। শূন্য পদ পূরণ জেনারেটর বরাদ্দের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতিদিন এ হাসপাতালে জরুরি প্রসূতি সেবা, নবজাতক ও শিশু চিকিৎসা, অক্সিজেন সাপোর্ট, টিকাদান, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। কিন্তু জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেবার মান ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সত্য বলতে কলিজা লাগে কেউ রাগ কইরেন না

বর্ষার পানিতে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে, দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর তিশীখালীর মাজার

Update Time : 01:40:55 pm, Saturday, 4 July 2026

মো. ইব্রাহিম আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
বর্ষার প্রথম দফার বৃষ্টিতে চলনবিলে পানি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে প্রকৃতি ও জনজীবনে। দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ঐতিহাসিক চলনবিলে এখন ভিড় করছেন দেশ-বিদেশের পর্যটক, দর্শনার্থী এবং ভক্ত-আশেকানরা। বিশেষ করে চলনবিলের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহাসিক তিশীখালী পীর ঘাসী দেওয়ান (রহ.)-এর মাজার শরিফে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

গত শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা ১১টায় সরেজমিনে মাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারিবদ্ধভাবে বাঁধা রয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলার। মাজার চত্বরে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। লোকসমাগম বাড়ায় প্রাণ ফিরে এসেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যেও। খাবার, খেলনা ও প্রসাধন সামগ্রীর দোকানগুলোতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা।

মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে ভক্তদের ছোট-বড় দলে ভাগ হয়ে রান্না করতে দেখা যায়। মানত পূরণ উপলক্ষে কেউ খাসি, কেউবা মোরগ-মুরগি নিয়ে এসেছেন। রান্না শেষে শিন্নি হিসেবে তা উপস্থিত মানুষের মাঝে বিতরণ করছেন তারা।

রাজশাহীর পবা উপজেলা থেকে আসা স্কুলশিক্ষক বাবুল হাসান জানান, তিন মেয়ের পর ছেলে সন্তান হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় এবং পীর সাহেবের মাজারে দোয়ার উদ্দেশ্যে মানত করেছিলেন। সেই মানত পূরণ করতে প্রায় ৫০-৫২ জন স্বজনকে নিয়ে পাবলিক বাসে সাতপুকুরিয়া হয়ে ভাড়ার নৌকায় মাজারে এসেছেন। সঙ্গে এনেছেন এক জোড়া খাসি।

একইভাবে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম থেকে আসা চামেলি বেগম বলেন, মেয়ের একটি মানত থাকায় দুটি মোরগ নিয়ে এসেছেন। মাজারেই রান্না করে শিন্নি হিসেবে উপস্থিত সবার মধ্যে বিতরণ করবেন।

বর্ষার পানিতে বিল ভরে উঠতে শুরু করায় দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। তিশীখালী মাজার এলাকার চানাচুর বিক্রেতা ঝড়ু মিয়া বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে লোকজনের আনাগোনা বাড়ছে। শুক্রবার হওয়ায় ভিড় আরও বেশি ছিল এবং বিক্রিও বেশ ভালো হয়েছে।

চায়ের দোকানি চঞ্চল জানান, গত চার মাস তেমন বেচাকেনা ছিল না। এখন প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। বিলে পানি আরও বাড়লে ব্যবসা জমে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।

যাত্রী পারাপারে ব্যস্ত শ্যালো নৌকার মাঝি সুজন আলী জানান, বর্তমানে সাতপুকুরিয়া থেকে তিশীখালী মাজার পর্যন্ত জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী পারাপার করছেন। অনেক দর্শনার্থী আবার পরিবার নিয়ে ঘুরতে পুরো নৌকাই রিজার্ভ নিচ্ছেন।

সাতপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম খাঁন বলেন, তিশীখালীর মাজার চলনবিলের একটি ঐতিহাসিক ও অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। সারা বছরই এখানে মানুষ জিয়ারতের জন্য আসেন। তবে বর্ষায় বিলের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুরোপুরি বর্ষা শুরু হলে তিশীখালীর মাজারের পাশাপাশি সিংড়া পেট্রোবাংলা পয়েন্টের নৌকা ঘাটেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সরব উপস্থিতি দেখা যাবে।