
লেখক: ই.ক.ম.জে.ডি.উজ্জ্বল:-মানুষের জীবনে প্রেম এক অনন্ত অনুভূতির নাম। জন্মের পর থেকেই মানুষ ভালোবাসতে শেখে, ভালোবাসা পেতে শেখে এবং একসময় ভালোবাসার গভীর অর্থ খুঁজতে শুরু করে। এই ভালোবাসারই দুটি ভিন্ন রূপ—জাগতিক প্রেম ও আধ্যাত্মিক প্রেম। একটি মানুষকে প্রাপ্তির দিকে নিয়ে যায়, অন্যটি শেখায় ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও অন্তরের বিশুদ্ধতার সৌন্দর্য।
জাগতিক প্রেমে প্রিয়জনকে নিজের করে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রবল থাকে। সেখানে প্রত্যাশা আছে, অধিকার আছে, কখনো কখনো অভিমানও আছে। কিন্তু আধ্যাত্মিক প্রেমের প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে ভালোবাসা কোনো দাবি নয়, কোনো শর্ত নয়; বরং নিঃস্বার্থ নিবেদন। সেই প্রেমে প্রিয়জনকে নিজের করে পাওয়ার চেয়ে তার সুখ, শান্তি ও কল্যাণই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় প্রার্থনা।
জীবনের সব স্বপ্ন যদি পূরণ হয়ে যেত, তবে হয়তো অনুভূতির গভীরতা সৃষ্টি হতো না। কিছু স্বপ্ন অপূর্ণ থাকে বলেই মানুষ নতুন করে বাঁচতে শেখে। কিছু আকাঙ্ক্ষা অধরা থাকে বলেই হৃদয়ে জেগে থাকে অপেক্ষা, আর সেই অপেক্ষাই মানুষকে পরিণত করে আরও সংবেদনশীল ও মানবিক।
প্রেম মানুষকে বিনয়ী করে, অহংকারকে ভেঙে দেয় এবং আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। কিন্তু যখন ভালোবাসার মধ্যেও জয়-পরাজয়ের হিসাব চলে আসে, যখন ভালোবাসা হয়ে ওঠে আত্মপ্রদর্শনের মাধ্যম, তখন তার পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায়। প্রকৃত প্রেম কখনো প্রতিযোগিতা নয়; এটি আত্মার সঙ্গে আত্মার এক নীরব সংলাপ।
যে মানুষ ভালোবেসেও প্রিয়জনকে নিজের করে পায় না, সে-ও ব্যর্থ নয়। কারণ ভালোবাসতে পারার ক্ষমতা নিজেই এক বিরল আশীর্বাদ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা মানুষকে মহৎ করে, হৃদয়কে প্রসারিত করে এবং আত্মাকে আলোকিত করে।
তাই সব প্রাপ্তিই প্রকৃত প্রাপ্তি নয়, আবার সব না-পাওয়াও হারিয়ে যাওয়া নয়। কিছু বিরহ, কিছু আকুলতা, কিছু অপূর্ণতা এবং কিছু অনন্ত অপেক্ষাই মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকে। কারণ প্রেমের চূড়ান্ত সৌন্দর্য হয়তো মিলনে নয়; বরং সেই অনন্ত খোঁজে, অন্তহীন অপেক্ষায় এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নির্মল অনুভূতিতেই লুকিয়ে থাকে।
প্রেমের সর্বোচ্চ রূপ হলো—যেখানে অধিকার নয়, আত্মসমর্পণ; প্রাপ্তি নয়, অনুভূতি; আর মিলন নয়, বরং অনন্ত খোঁজই হয়ে ওঠে জীবনের শ্রেষ্ঠ আনন্দ।
মিসেস চামেলী আক্তার 





















