
নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
সূত্র: রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তাঁর শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে।
সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতির কাছে ইতোমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে পদত্যাগের বার্তা পৌঁছানো হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি তাঁর অধস্তন কর্মকর্তাদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে পারেন এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
সংবিধানে যা বলা হয়েছে
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি অসুস্থতা, অনুপস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা
রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল।
তবে এ বিষয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এমন কোনো বিষয়ে অবগত নন এবং রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন নাম আলোচনায় আসতে পারে।
এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
রাজনৈতিক গুরুত্ব
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তাহলে গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার সুযোগ পাবে। ফলে বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দ্রষ্টব্য: এ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
Reporter Name 

























