
নিজস্ব প্রতিবেদক:জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
দেশের দীর্ঘদিনের অচল ও অব্যবহৃত আটটি বিমানবন্দর পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালুর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।
সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা জানান, দেশের স্বার্থ, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও যাত্রীসেবা বিবেচনায় পরিত্যক্ত বিমানবন্দরগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।
বগুড়া বিমানবন্দর হবে আন্তর্জাতিক মানের
পরিকল্পনা অনুযায়ী বগুড়া বিমানবন্দরে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণ করা হবে, যেখানে বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ বড় আকারের যাত্রী ও কার্গো বিমান অবতরণ করতে পারবে। প্রকল্পে আধুনিক চারতলা টার্মিনাল ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ার, কার্গো কমপ্লেক্স এবং আইএলএস ক্যাট-৩বি প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের ডিজাইন ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-কে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। সব মিলিয়ে প্রকল্প ব্যয় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দীর্ঘ অচলাবস্থার পর ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জে অবস্থিত বিমানবন্দরটি ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮০ সালে যাত্রী সংকটের কারণে এটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে বিমানবন্দরের অবকাঠামো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বিমানবন্দরটি আধুনিকায়নে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে জমি অধিগ্রহণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যান্য বিমানবন্দরও চালুর পরিকল্পনায়
লালমনিরহাট বিমানবন্দর, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর, কুমিল্লা বিমানবন্দর, শমশেরনগর বিমানবন্দর, খানজাহান আলী বিমানবন্দর এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দর-সহ মোট আটটি অব্যবহৃত বিমানবন্দর ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিমানবন্দর চালু হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, কৃষি ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক সক্ষমতা নিশ্চিত করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত বলে তারা মত দিয়েছেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো চালুর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু হয়নি।
জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল 














