Dhaka 4:10 pm, Friday, 5 June 2026

র‍্যাবের চিরুনি অভিযানে কাঞ্জরপাড়ায় অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি‘লাদেন’গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক,টেকনাফ (কক্সবাজার):

পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলা টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া এলাকার আলোচিত অস্ত্র মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি নবী হোসেন ওরফে “লাদেন” (৪৫)-কে আটক করেছে র‍্যাব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে।

আটককৃত নবী হোসেন টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কাঞ্জরপাড়া এলাকার মৃত শহর মুল্লুকের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় তিনি “লাদেন” নামে পরিচিত এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ছিলেন।

র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ থানায় দায়ের হওয়া একটি চাঞ্চল্যকর অস্ত্র মামলার অন্যতম প্রধান আসামি হিসেবে তার নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা যায়, আত্মগোপনে থাকার সময় নবী হোসেন পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলার পালংখালী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে অবস্থান করে তিনি সীমান্তকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নবী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার, অস্ত্র বহন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সীমান্তপথে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, চাঁদাবাজি এবং মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তার নাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা ছিল এবং তিনি ‘ইয়াবা ডন’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

র‍্যাবের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত আছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযান আরও জোরদার হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ধামইরহাটে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

র‍্যাবের চিরুনি অভিযানে কাঞ্জরপাড়ায় অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি‘লাদেন’গ্রেপ্তার

Update Time : 11:20:06 pm, Wednesday, 13 May 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক,টেকনাফ (কক্সবাজার):

পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলা টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া এলাকার আলোচিত অস্ত্র মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি নবী হোসেন ওরফে “লাদেন” (৪৫)-কে আটক করেছে র‍্যাব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে।

আটককৃত নবী হোসেন টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কাঞ্জরপাড়া এলাকার মৃত শহর মুল্লুকের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় তিনি “লাদেন” নামে পরিচিত এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ছিলেন।

র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ থানায় দায়ের হওয়া একটি চাঞ্চল্যকর অস্ত্র মামলার অন্যতম প্রধান আসামি হিসেবে তার নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা যায়, আত্মগোপনে থাকার সময় নবী হোসেন পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলার পালংখালী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে অবস্থান করে তিনি সীমান্তকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নবী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার, অস্ত্র বহন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সীমান্তপথে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, চাঁদাবাজি এবং মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তার নাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা ছিল এবং তিনি ‘ইয়াবা ডন’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

র‍্যাবের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত আছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযান আরও জোরদার হবে।