Dhaka 4:10 pm, Friday, 5 June 2026

গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর ৫ জনকে হত্যার রহস্য উদঘাটনে অনুসন্ধানে পুলিশ 

নিউজ ডেস্ক – ছবি সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের ৫ জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু এলাকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গোপালগঞ্জ সদর থানার গোপীনাথপুর এলাকার মৃত আতিকার রহমান মোল্লারের ছেলে ফোরকান মোল্লা (৪০) প্রায় ১৬ বছর আগে শারমিন বেগমকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল। প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান মোল্লা স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউজকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

পুলিশ আরও জানায়, গত ৮ মে রাতে ফোরকান মোল্লা তার শ্যালক রাসেল মোল্লাকে গাড়ি কেনার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসেন। পরে গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবাই অচেতন হলে ফোরকান ধারালো চাপাতি দিয়ে তার স্ত্রী শারমিন বেগম, তিন কন্যা সন্তান এবং শ্যালক রাসেল মোল্লাকে হত্যা করেন।

নিহত শারমিনের বাবা শাহাবুদ্দিন মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই জেলা পুলিশ, পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং কাপাসিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে নামে।

পুলিশ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান ঢাকার দিকে পালিয়ে যান এবং পরে পদ্মা সেতু এলাকায় অবস্থান নেন। ১১ মে সকালে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের পাশে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি কিছু সময় সেতুর ওপর অবস্থান করার পর নদীতে ঝাঁপ দেন। পুলিশের ধারণা, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের কারণে ফোরকান মোল্লা পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যান এবং পরবর্তীতে পদ্মা সেতু থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও চলমান, এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা আতঙ্ক ও ক্ষোভের মধ্যে রয়েছে, আর নিহতদের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ধামইরহাটে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর ৫ জনকে হত্যার রহস্য উদঘাটনে অনুসন্ধানে পুলিশ 

Update Time : 11:12:02 pm, Friday, 15 May 2026

নিউজ ডেস্ক – ছবি সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের ৫ জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু এলাকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গোপালগঞ্জ সদর থানার গোপীনাথপুর এলাকার মৃত আতিকার রহমান মোল্লারের ছেলে ফোরকান মোল্লা (৪০) প্রায় ১৬ বছর আগে শারমিন বেগমকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল। প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান মোল্লা স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউজকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

পুলিশ আরও জানায়, গত ৮ মে রাতে ফোরকান মোল্লা তার শ্যালক রাসেল মোল্লাকে গাড়ি কেনার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসেন। পরে গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবাই অচেতন হলে ফোরকান ধারালো চাপাতি দিয়ে তার স্ত্রী শারমিন বেগম, তিন কন্যা সন্তান এবং শ্যালক রাসেল মোল্লাকে হত্যা করেন।

নিহত শারমিনের বাবা শাহাবুদ্দিন মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই জেলা পুলিশ, পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং কাপাসিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে নামে।

পুলিশ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান ঢাকার দিকে পালিয়ে যান এবং পরে পদ্মা সেতু এলাকায় অবস্থান নেন। ১১ মে সকালে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের পাশে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি কিছু সময় সেতুর ওপর অবস্থান করার পর নদীতে ঝাঁপ দেন। পুলিশের ধারণা, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের কারণে ফোরকান মোল্লা পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যান এবং পরবর্তীতে পদ্মা সেতু থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও চলমান, এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা আতঙ্ক ও ক্ষোভের মধ্যে রয়েছে, আর নিহতদের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।