Dhaka 4:23 pm, Friday, 5 June 2026

যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট, চরম ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: মোঃ ইয়াছিন আলী

সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই যানজটের কারণে হাজার হাজার যাত্রীকে দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র গরমে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর থেকে কামারখন্দ উপজেলার কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিস্তৃত এই যানজট ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের অতিরিক্ত চাপ এবং একাধিক দুর্ঘটনা ও বিকল যানবাহনের কারণে আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার সূত্রধর জানান, সেতুর পশ্চিম টোলপ্লাজা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে ব্যাপক যানজট বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে উত্তরবঙ্গগামী একটি লেন বন্ধ রেখে উভয় লেন ব্যবহার করে ঢাকামুখী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটি শেষে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজধানী ও আশপাশের কর্মস্থলে ফিরছেন। ফলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভোররাতে যমুনা সেতুর ওপর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে একটি বাস, একটি প্রাইভেটকার ও একটি ট্রাকের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলো সড়কের ওপর বিকল হয়ে পড়ে এবং পুরো লেন অবরুদ্ধ হয়ে যায়। এর ফলে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে একই সময়ে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গার্মেন্টস শ্রমিক বহনকারী কয়েকটি দূরপাল্লার পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ বাস বিকল হয়ে পড়ে। এতে উভয় দিকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে।

হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা রাত থেকেই যানজট নিরসনে কাজ করছেন। রেকার ব্যবহার করে দুর্ঘটনাকবলিত ও বিকল যানবাহনগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রী জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকার কারণে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সেবার সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, বিকেলের মধ্যে যানজট অনেকটাই কমে আসবে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

ঈদ-পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে এমন দীর্ঘ যানজট আবারও সড়ক ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের ফিটনেস এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ধামইরহাটে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট, চরম ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

Update Time : 01:15:29 pm, Friday, 5 June 2026

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: মোঃ ইয়াছিন আলী

সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই যানজটের কারণে হাজার হাজার যাত্রীকে দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র গরমে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর থেকে কামারখন্দ উপজেলার কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিস্তৃত এই যানজট ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের অতিরিক্ত চাপ এবং একাধিক দুর্ঘটনা ও বিকল যানবাহনের কারণে আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার সূত্রধর জানান, সেতুর পশ্চিম টোলপ্লাজা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে ব্যাপক যানজট বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে উত্তরবঙ্গগামী একটি লেন বন্ধ রেখে উভয় লেন ব্যবহার করে ঢাকামুখী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটি শেষে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজধানী ও আশপাশের কর্মস্থলে ফিরছেন। ফলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভোররাতে যমুনা সেতুর ওপর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে একটি বাস, একটি প্রাইভেটকার ও একটি ট্রাকের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলো সড়কের ওপর বিকল হয়ে পড়ে এবং পুরো লেন অবরুদ্ধ হয়ে যায়। এর ফলে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে একই সময়ে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গার্মেন্টস শ্রমিক বহনকারী কয়েকটি দূরপাল্লার পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ বাস বিকল হয়ে পড়ে। এতে উভয় দিকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে।

হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা রাত থেকেই যানজট নিরসনে কাজ করছেন। রেকার ব্যবহার করে দুর্ঘটনাকবলিত ও বিকল যানবাহনগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রী জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকার কারণে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সেবার সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, বিকেলের মধ্যে যানজট অনেকটাই কমে আসবে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

ঈদ-পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে এমন দীর্ঘ যানজট আবারও সড়ক ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের ফিটনেস এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।