
মোঃ ইউসুফ খাঁন,স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর)
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী নারীসহ এলাকার প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৫টায় উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খিতাবখাঁ গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, ২০১৭ সালে রাজারহাট সদর ইউনিয়নের নাটুয়া মহল গ্রামের হায়দার আলীর মেয়ে সামিনার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ গ্রামের সোলেমান মুন্সীর চতুর্থ পুত্র রফিকুল ইসলাম। বিয়ের পর তাদের সংসারে রোমানা নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কিছুদিন পর রফিকুল ইসলাম তার ভাবির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে ২০১৯ সালে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর সামিনা ঢাকায় গিয়ে একটি পোশাক কারখানায় অপারেটর হিসেবে প্রায় তিন বছর চাকরি করেন।
এদিকে রফিকুল ইসলাম কর্মসূত্রে মরিশাসে চলে যান। বিদেশে অবস্থানকালে তিনি পুনরায় সামিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের একমাত্র কন্যা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বলে আবার সংসার করার প্রস্তাব দেন। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সামিনা তার প্রস্তাবে সম্মতি দেন।
পরে রফিকুল ইসলামের আহ্বানে সামিনা চাকরি ছেড়ে তার গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করতে শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক মাস পর রফিকুল ইসলাম বাড়ি পাকা করার জন্য সামিনার কাছে আর্থিক সহযোগিতা চান। সামিনা তার চাকরি থেকে সঞ্চিত প্রায় ৪ লাখ টাকা বাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যয় করেন। শুধু তাই নয়, নির্মাণকাজ চলাকালে শ্রমিকদের খাবার প্রস্তুত ও অন্যান্য কাজেও সহযোগিতা করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, বাড়ির কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়ি বেড়াতে যান। ফিরে এসে দেখেন, তার নিজ অর্থে নির্মিত বাড়িটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে থাকা রফিকুল ইসলাম তার ভাইয়ের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা করেন এবং সামিনাকে সেখানে বসবাস করতে দেওয়া হয়নি।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ রফিকুল ইসলামের বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেন এবং সামিনাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা রোকাইয়া বেগম, আব্দুল লতিফ, নাসির শেখ, আতিয়ার রহমানসহ আরও অনেকে। বক্তারা সামিনার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি করেন। একই সঙ্গে তাদের একমাত্র কন্যা সন্তানসহ সামিনাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার জন্য রফিকুল ইসলামের প্রতি আহ্বান জানান।
ভুক্তভোগী সামিনা সাংবাদিকদের বলেন, “ডিভোর্সের পর আমি আমার মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করি এবং কষ্ট করে প্রায় চার লাখ টাকা জমাই। পরে সাবেক স্বামীর কথায় বিশ্বাস করে সেই টাকা তার বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করি। ভেবেছিলাম মেয়েকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে সংসার করব। কিন্তু তিনি আবারও আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।সংবাদটি প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য (রফিকুল ইসলাম বা তার পরিবারের মন্তব্য) সংগ্রহ করলে প্রতিবেদনটি ভারসাম্যপূর্ণ করতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















