Dhaka 5:13 pm, Friday, 5 June 2026

উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহর প্রদত্ত রহমত পাওয়া যায় ইসলামী স্কলার মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল 

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:14:47 pm, Friday, 16 May 2025
  • 156 Time View

উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহর প্রদত্ত রহমত পাওয়া যায় ইসলামী স্কলার মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল

 

নিজস্ব সংবাদদাতা

এক ভদ্রমহিলা একটি মাংস সরবরাহ কারখানায় চাকরি করতেন। একদিন তিনি ডিউটি শেষ করে মাংস সংরক্ষণ হিমাগারে কোনো একটি বিষয় পরীক্ষা করার জন্য ঢুকলেন। তখন আকস্মিকভাবে হিমাগারের দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালাবদ্ধ হয়ে গেল এবং ভদ্রমহিলা ভিতরে আটকে পড়ে গেলেন।

মহিলা সেখান থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার চিৎকারের শব্দ হিমাগারের বাইরে কারো কানে পৌঁছাল না।

এদিকে সন্ধ্যা নামার পর একে একে অফিসের সবাই বেরিয়ে গেল। মহিলা একাকী অন্ধকার হিমাগারে আটকা পড়ে থাকলেন।

এভাবে প্রায় পাঁচ ঘন্টা পার হয়ে গেল এবং মহিলা যখন ঠান্ডায় একেবারে মৃতপ্রায়, ঠিক তখন ফ্যাক্টরির নিরাপত্তা প্রহরী হিমাগারের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলেন। বলা যায়, সে রাতে ভদ্রমহিলা প্রায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন।

বাইরে বের হয়ে উষ্ণ পরিবেশে কিছুটা ধাতস্থ হয়ে ভদ্রমহিলা নিরাপত্তা প্রহরীকে জিজ্ঞাসা করলেন, “ওই সময়ে আপনি হিমাগারের দরজা খুলতে গেলেন কেন? ওটা তো আপনার রুটিন ওয়ার্কের অংশ ছিল না।”

তখন নিরাপত্তা প্রহরী বললেন, “আমি বিগত ৩৫ বছর যাবৎ কারখানার প্রবেশ দ্বারে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত আছি। প্রতিদিন শত শত লোক এই কারখানায় কাজে আসে, কাজ শেষে ফিরেও যায়। এত বছরে এত লোকের মধ্যে একমাত্র আপনিই প্রতিদিন সকালে কারখানায় প্রবেশকালে আমাকে হাত তুলে ‘হ্যালো’ বলেন এবং সন্ধ্যার পর কাজ শেষে ফিরে যাবার সময় হাসিমুখে আমাকে ‘গুড বাই, আবার কাল দেখা হবে’ বলে বেরিয়ে যান। অন্য সবাইকে দেখে মনে হয় আমি বোধহয় কোন অদৃশ্য বস্তু। কেউ আমাকে কোনদিন দেখতেই পায় না!

আজও রোজকার মতো সকালে আপনি আমাকে ‘হ্যালো’ বলে কারখানায় ঢুকলেন। সন্ধ্যার পর একে একে সবাই কাজ শেষে বেরিয়ে গেল। আমি ভাবলাম গেট বন্ধ করে তালা লাগিয়ে বিশ্রাম নেব। হঠাৎ মনে হলো, কি ব্যাপার, যে ভদ্রমহিলা আমাকে ‘গুড বাই , আবার কাল দেখা হবে’ বলে বেরিয়ে যায় তাকে তো আজ বের হতে দেখলাম না।

প্রথমে ভাবলাম হয়তো কোনো কাজে আপনার বিলম্ব হচ্ছে, তাই গেট বন্ধ না করে প্রায় ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করলাম। তারপরেও যখন আপনাকে বের হতে দেখলাম না, তখন কৌতূহলবশত সারা কারখানার আনাচে কানাচে প্রতিটি জায়গায় খুঁজে কোথাও না পেয়ে কেমন একট ভয় মিশ্রিত সন্দেহ হলো। তখনই আমি হিমাগারের দরজা খুলে আপনাকে মেঝের উপর পড়ে থাকতে দেখলাম।

সত্যি বলতে কি, আমি প্রতিদিন মনে মনে সকালে ‘হ্যালো’ এবং সন্ধ্যায় ‘গুড বাই’ এই শব্দ দুটো শোনার অপেক্ষায় থাকি। কেননা ওই শব্দ দুটিই আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে, আমিও একজন মানুষ!”

অস্থির এক সময় পার করছি আমরা। সবাই যার যার মতো ব্যস্ত। কেউ জানে না আগামীকাল কার জন্য কি অপেক্ষা করছে! তাই প্রতিদিন যাদের সাথে আপনার দেখা হয়, তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখার চেষ্টা করুন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় কথিত কাজির সহকারী রয়েল গ্রেপ্তার

উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহর প্রদত্ত রহমত পাওয়া যায় ইসলামী স্কলার মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল 

Update Time : 07:14:47 pm, Friday, 16 May 2025

উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহর প্রদত্ত রহমত পাওয়া যায় ইসলামী স্কলার মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল

 

নিজস্ব সংবাদদাতা

এক ভদ্রমহিলা একটি মাংস সরবরাহ কারখানায় চাকরি করতেন। একদিন তিনি ডিউটি শেষ করে মাংস সংরক্ষণ হিমাগারে কোনো একটি বিষয় পরীক্ষা করার জন্য ঢুকলেন। তখন আকস্মিকভাবে হিমাগারের দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালাবদ্ধ হয়ে গেল এবং ভদ্রমহিলা ভিতরে আটকে পড়ে গেলেন।

মহিলা সেখান থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার চিৎকারের শব্দ হিমাগারের বাইরে কারো কানে পৌঁছাল না।

এদিকে সন্ধ্যা নামার পর একে একে অফিসের সবাই বেরিয়ে গেল। মহিলা একাকী অন্ধকার হিমাগারে আটকা পড়ে থাকলেন।

এভাবে প্রায় পাঁচ ঘন্টা পার হয়ে গেল এবং মহিলা যখন ঠান্ডায় একেবারে মৃতপ্রায়, ঠিক তখন ফ্যাক্টরির নিরাপত্তা প্রহরী হিমাগারের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলেন। বলা যায়, সে রাতে ভদ্রমহিলা প্রায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন।

বাইরে বের হয়ে উষ্ণ পরিবেশে কিছুটা ধাতস্থ হয়ে ভদ্রমহিলা নিরাপত্তা প্রহরীকে জিজ্ঞাসা করলেন, “ওই সময়ে আপনি হিমাগারের দরজা খুলতে গেলেন কেন? ওটা তো আপনার রুটিন ওয়ার্কের অংশ ছিল না।”

তখন নিরাপত্তা প্রহরী বললেন, “আমি বিগত ৩৫ বছর যাবৎ কারখানার প্রবেশ দ্বারে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত আছি। প্রতিদিন শত শত লোক এই কারখানায় কাজে আসে, কাজ শেষে ফিরেও যায়। এত বছরে এত লোকের মধ্যে একমাত্র আপনিই প্রতিদিন সকালে কারখানায় প্রবেশকালে আমাকে হাত তুলে ‘হ্যালো’ বলেন এবং সন্ধ্যার পর কাজ শেষে ফিরে যাবার সময় হাসিমুখে আমাকে ‘গুড বাই, আবার কাল দেখা হবে’ বলে বেরিয়ে যান। অন্য সবাইকে দেখে মনে হয় আমি বোধহয় কোন অদৃশ্য বস্তু। কেউ আমাকে কোনদিন দেখতেই পায় না!

আজও রোজকার মতো সকালে আপনি আমাকে ‘হ্যালো’ বলে কারখানায় ঢুকলেন। সন্ধ্যার পর একে একে সবাই কাজ শেষে বেরিয়ে গেল। আমি ভাবলাম গেট বন্ধ করে তালা লাগিয়ে বিশ্রাম নেব। হঠাৎ মনে হলো, কি ব্যাপার, যে ভদ্রমহিলা আমাকে ‘গুড বাই , আবার কাল দেখা হবে’ বলে বেরিয়ে যায় তাকে তো আজ বের হতে দেখলাম না।

প্রথমে ভাবলাম হয়তো কোনো কাজে আপনার বিলম্ব হচ্ছে, তাই গেট বন্ধ না করে প্রায় ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করলাম। তারপরেও যখন আপনাকে বের হতে দেখলাম না, তখন কৌতূহলবশত সারা কারখানার আনাচে কানাচে প্রতিটি জায়গায় খুঁজে কোথাও না পেয়ে কেমন একট ভয় মিশ্রিত সন্দেহ হলো। তখনই আমি হিমাগারের দরজা খুলে আপনাকে মেঝের উপর পড়ে থাকতে দেখলাম।

সত্যি বলতে কি, আমি প্রতিদিন মনে মনে সকালে ‘হ্যালো’ এবং সন্ধ্যায় ‘গুড বাই’ এই শব্দ দুটো শোনার অপেক্ষায় থাকি। কেননা ওই শব্দ দুটিই আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে, আমিও একজন মানুষ!”

অস্থির এক সময় পার করছি আমরা। সবাই যার যার মতো ব্যস্ত। কেউ জানে না আগামীকাল কার জন্য কি অপেক্ষা করছে! তাই প্রতিদিন যাদের সাথে আপনার দেখা হয়, তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখার চেষ্টা করুন।