Dhaka 3:57 pm, Sunday, 26 July 2026

দাফনের ৭ মাস পর পার্ক ব্যবস্থাপকের মরদেহ উত্তোলন ও ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত

উজ্জ্বল রায়,জেলা প্রতিনিধি নড়াইল:-

নড়াইলের লোহাগড়ায় দাফনের ৭ মাস পর পার্ক ব্যবস্থাপকের মরদেহ উত্তোলন ও ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দাফনের সাত মাস পর কবর থেকে উপজেলার নিরিবিলি পিকনিক স্পটের কাউন্টার ব্যবস্থাপক মুকুল মোল্যা নামে এক ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার লক্ষ্মীপাশা কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে তার মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। মুকুল লক্ষীপাশা গ্রামের মৃত রুহুল আমীন মোল্যার ছেলে।
নড়াইল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মেহেদী হাসান মরদেহ উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের (২৭ আগস্ট) বিকেলে পিকনিক স্পটে আসেন একই উপজেলার রাজোপুর এলাকার ভাড়াটিয়া আবু সাঈদ, আরিনা জান্নাতুল ও সাহানুর বেগমসহ কয়েকজন। এ সময় রাত্রিযাপনের জন্য কক্ষ ভাড়া নেওয়া নিয়ে তাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় ব্যবস্থাপক মুকুলের। একপর্যায়ে তারা সবাই মিলে মুকুলকে মারধর করেন। এ সময় মুকুলকে অসুস্থ অবস্থায় লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মুকুলকে মারধরের বিষয়টি পরিবার তখনও জানতো না। এ কারণে মুকুলের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে পরদিন (২৮ আগস্ট) দাফন করে তার পরিবার।
জানা যায়, দাফনের দুদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পার্ক ব্যবস্থাপক মুকুলকে মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিহতের পরিবারের নজরে এলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়। ওই বছরের ২ নভেম্বর লোহাগড়া আমলি আদালতে নিহতের বড় বোন রেহানা পারভীন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তের স্বার্থে আদালত সংস্থাটিকে মুকুলের মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য অনুমতি দেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।
অপরদিকে

নড়াইলের লোহাগড়া নাতিকে স্কুলে দিয়ে ফিরছিলেন বাড়িতে, ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত

উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

নড়াইলের লোহাগড়া নাতিকে স্কুলে দিয়ে ফিরছিলেন বাড়িতে, ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় নাতিকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়িতে ফেরার সময় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে আকরাম মোল্যা (৬০) এক ব্যক্তির নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালের দিকে উপজেলার লোহাগড়া ইউনিয়নের পূর্ব চর-কালনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আকরাম মোল্যা উপজেলার চর-বকজুড়ি গ্রামের মৃত খালেক মোল্যার ছেলে।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আকরাম মোল্যা নামে ওই ব্যক্তি বিগত ৩০ বছর আগে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থেকে নদী ভাঙনের কারণে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর বকজুড়ি গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন। মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে নাতি মাহিম মোল্যাকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। পরে নাতিকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আকরাম। পথিমধ্যে চর-কালনা এলাকায় রেললাইন পার হওয়ার সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে, দেহ দ্বিখণ্ডিত হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা-পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল তালুকদার বলেন, মরদেহটি আমরা উদ্ধার করে সরিয়ে রেখেছি। যেহেতু জায়গাটি রেলওয়ে পুলিশের আওতায়। যে কারণে রেলওয়ে পুলিশকে জানিয়েছি। তারা এসে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রাজবাড়ীতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকের উপর হামলা

দাফনের ৭ মাস পর পার্ক ব্যবস্থাপকের মরদেহ উত্তোলন ও ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত

Update Time : 08:26:47 pm, Tuesday, 7 April 2026

উজ্জ্বল রায়,জেলা প্রতিনিধি নড়াইল:-

নড়াইলের লোহাগড়ায় দাফনের ৭ মাস পর পার্ক ব্যবস্থাপকের মরদেহ উত্তোলন ও ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দাফনের সাত মাস পর কবর থেকে উপজেলার নিরিবিলি পিকনিক স্পটের কাউন্টার ব্যবস্থাপক মুকুল মোল্যা নামে এক ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার লক্ষ্মীপাশা কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে তার মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। মুকুল লক্ষীপাশা গ্রামের মৃত রুহুল আমীন মোল্যার ছেলে।
নড়াইল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মেহেদী হাসান মরদেহ উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের (২৭ আগস্ট) বিকেলে পিকনিক স্পটে আসেন একই উপজেলার রাজোপুর এলাকার ভাড়াটিয়া আবু সাঈদ, আরিনা জান্নাতুল ও সাহানুর বেগমসহ কয়েকজন। এ সময় রাত্রিযাপনের জন্য কক্ষ ভাড়া নেওয়া নিয়ে তাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় ব্যবস্থাপক মুকুলের। একপর্যায়ে তারা সবাই মিলে মুকুলকে মারধর করেন। এ সময় মুকুলকে অসুস্থ অবস্থায় লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মুকুলকে মারধরের বিষয়টি পরিবার তখনও জানতো না। এ কারণে মুকুলের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে পরদিন (২৮ আগস্ট) দাফন করে তার পরিবার।
জানা যায়, দাফনের দুদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পার্ক ব্যবস্থাপক মুকুলকে মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিহতের পরিবারের নজরে এলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়। ওই বছরের ২ নভেম্বর লোহাগড়া আমলি আদালতে নিহতের বড় বোন রেহানা পারভীন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তের স্বার্থে আদালত সংস্থাটিকে মুকুলের মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য অনুমতি দেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।
অপরদিকে

নড়াইলের লোহাগড়া নাতিকে স্কুলে দিয়ে ফিরছিলেন বাড়িতে, ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত

উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

নড়াইলের লোহাগড়া নাতিকে স্কুলে দিয়ে ফিরছিলেন বাড়িতে, ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় নাতিকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়িতে ফেরার সময় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে আকরাম মোল্যা (৬০) এক ব্যক্তির নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালের দিকে উপজেলার লোহাগড়া ইউনিয়নের পূর্ব চর-কালনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আকরাম মোল্যা উপজেলার চর-বকজুড়ি গ্রামের মৃত খালেক মোল্যার ছেলে।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আকরাম মোল্যা নামে ওই ব্যক্তি বিগত ৩০ বছর আগে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থেকে নদী ভাঙনের কারণে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর বকজুড়ি গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন। মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে নাতি মাহিম মোল্যাকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। পরে নাতিকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আকরাম। পথিমধ্যে চর-কালনা এলাকায় রেললাইন পার হওয়ার সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে, দেহ দ্বিখণ্ডিত হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা-পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল তালুকদার বলেন, মরদেহটি আমরা উদ্ধার করে সরিয়ে রেখেছি। যেহেতু জায়গাটি রেলওয়ে পুলিশের আওতায়। যে কারণে রেলওয়ে পুলিশকে জানিয়েছি। তারা এসে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।