
মো:সোহেল রানা,রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:
বিলাইছড়ি উপজেলা বিএনপি কমিটির আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে “দি পাংখোয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিএসএবি)”। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিস্তারিত লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিলাইছড়ি উপজেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য প্রদান করা হয়, তা পরবর্তীতে বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এতে করে পাংখোয়া সম্প্রদায় ও ছাত্রসমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুস সালাম ফকির এবং ভানলাল ক্রশা পাংখোয়া (ভিএল পাংখোয়া) বক্তব্য প্রদান করেন। পিএসএবি’র অভিযোগ, উক্ত বক্তব্যে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ১২০ (গ) নং তিনকোনিয়া মৌজার হেডম্যান লাল এংলিয়ানা পাংখোয়ার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ, মানহানিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর গোষ্ঠী ও পাংখোয়া সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে, যা সামাজিকভাবে বিভ্রান্তিকর এবং সম্প্রীতিবিরোধী বলে সংগঠনটি মনে করে।
বিবৃতিতে পিএসএবি জানায়, তারা উক্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং তা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছে। সংগঠনটি মনে করে, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক পদে থেকে এ ধরনের অসংযত ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান সংশ্লিষ্ট দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থাকলে তা সংলাপ ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত—কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে জনসম্মুখে হেয়প্রতিপন্ন করা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
পিএসএবি দাবি করেছে, উক্ত বক্তব্য বিলাইছড়ি এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এতে পাংখোয়া ছাত্রসমাজসহ পুরো সম্প্রদায় মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও অপমানিত বোধ করছে। ছাত্র সংগঠন হিসেবে পিএসএবি মনে করে, তরুণ প্রজন্মের সামনে বিভাজনমূলক বক্তব্য নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন।
এ প্রেক্ষিতে সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত বক্তব্য প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানহানিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাথান এল রনাল পাংখোয়া স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতির শেষাংশে পিএসএবি পুনরায় জোর দিয়ে বলে, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখাই সকলের দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করতে পারে—যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা 





















