
শীতের দাপটে সিংড়ার ফুটপাতে নতুন-পুরাতন কাপড়ের জমজমাট বাজার
মোঃ ইব্রাহিম আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
পৌষ মাসের কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের জনজীবন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। আর এই চাহিদা মেটাতে সিংড়া পৌর শহরের ফুটপাতগুলোতে নতুন ও পুরাতন শীতবস্ত্রের বাজারে জমজমাট বেচাকেনা শুরু হয়েছে।
নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড ও কলেজ রোড এলাকার ফুটপাতজুড়ে ১৫ থেকে ২০টি অস্থায়ী দোকানে বিক্রি হচ্ছে নতুন ও পুরাতন শীতের কাপড়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে এসব এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে।
ফুটপাতের এসব দোকানে ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পুরাতন শীতবস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে। আধা পুরাতন কাপড় বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এছাড়া নতুন শীতের কাপড়ের দাম ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে।
সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফুটপাত ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, তার দোকানে দেশি-বিদেশি নতুন ও পুরাতন সব ধরনের শীতবস্ত্র রয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চট্টগ্রামের মোকাম থেকে মালামাল এনেছেন। শুরুতে বিক্রি কম থাকলেও গত দুই দিন ধরে বেচাকেনা বেশ ভালো হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ক্রেতাদের সেবা দিচ্ছেন তিনি।
ফুটপাতের পাশাপাশি সিংড়া পৌর শহরের বিভিন্ন মার্কেটের কাপড়ের দোকানগুলোতেও শীতবস্ত্র কেনার ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। দোকানগুলোতে হুডি, মোটা গেঞ্জি, জ্যাকেট, সুয়েটার, মেয়েদের কার্ডিগান, শর্ট কোর্ট, বেলবেড জ্যাকেট, ডেনিম শার্ট, শিশুদের শীতের জামা, কানটুপি, মাফলার ও মোজাসহ নানা ধরনের পোশাক বিক্রি হচ্ছে।
দাম যাচাই করে দেখা যায়, হুডি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, মোটা গেঞ্জি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, মেয়েদের কার্ডিগান ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা, সুয়েটার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মোটা জ্যাকেট ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, কানটুপি ৬০ থেকে ১২০ টাকা, মাঙ্কি টুপি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শর্ট কোর্ট ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, শিশুদের শীতের পোশাক ১০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং পা মোজা ৩০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফুটপাতে শীতবস্ত্র কিনতে আসা নুরজাহান খাতুন বলেন, টাকার বাজেট কম থাকায় মার্কেটে না গিয়ে ফুটপাত থেকেই ছেলে-মেয়ের জন্য শীতের কাপড় কিনেছি। এখানকার দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক সাশ্রয় হয়েছে।
অন্যদিকে অটো রিকশাচালক খাদেম আলী জানান, দরদাম করে ৩২০ টাকায় একটি আধা পুরাতন জ্যাকেট কিনেছি। জ্যাকেটটি বেশ মোটা। ইনশাআল্লাহ এবারের শীতটা এ দিয়েই চলে যাবে।
কলেজ রোড এলাকার ফুটপাত ব্যবসায়ী তারেক রহমান বলেন, গত বছর অগ্রহায়ণ মাস থেকেই শীতের কাপড়ের ভালো বেচাকেনা শুরু হয়েছিল। তবে এবছর শীত দেরিতে আসায় পৌষ মাসে এসে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শীত যত বাড়ে বিক্রিও তত বাড়ে। সারা বছরের তুলনায় শীতের তিন মাসেই তাদের সবচেয়ে বেশি ব্যবসা হয়। এবছরও ভালো বেচাকেনার আশা করছেন তিনি।
মোঃ ইব্রাহীম আলী 





















