Dhaka 6:28 am, Friday, 24 July 2026

আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ হত্যা:মূল রহস্য উদ্ঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার;আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক:জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলার মূল রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। এ ঘটনায় প্রধান আসামি মো. সাইফুল ইসলাম (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই ২০২৬ দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটের দিকে মোসা. শান্তা বেগম (৩৩) তার তৃতীয় স্বামী পরিচয়ে মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত ‘আনোয়ারা ম্যানশন ইভ্যালি আবাসিক হোটেল’-এর ৩০৭ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। ওই দিন রাত আনুমানিক ১০টা ৪৮ মিনিটে হোটেল কর্তৃপক্ষের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ কক্ষ থেকে গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতপ্রাপ্ত শান্তা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ ও মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহতের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বাসন থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের তদন্তাধীন হওয়ায় ২৩ জুলাই তদন্তভার গ্রহণ করেন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী।

পিবিআই জানায়, অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে একই দিন সকালে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে নিহত শান্তা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ, সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সন্দেহের কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেলের কক্ষে পূর্বের বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সাইফুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে শান্তা বেগমকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে আসামি নিহতের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রাইম সিন টিম এবং একটি বিশেষ তদন্ত দল মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার অন্যান্য দিকও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তানোরে ১৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ হত্যা:মূল রহস্য উদ্ঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার;আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি

Update Time : 11:55:08 pm, Tuesday, 21 July 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলার মূল রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। এ ঘটনায় প্রধান আসামি মো. সাইফুল ইসলাম (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই ২০২৬ দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটের দিকে মোসা. শান্তা বেগম (৩৩) তার তৃতীয় স্বামী পরিচয়ে মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত ‘আনোয়ারা ম্যানশন ইভ্যালি আবাসিক হোটেল’-এর ৩০৭ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। ওই দিন রাত আনুমানিক ১০টা ৪৮ মিনিটে হোটেল কর্তৃপক্ষের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ কক্ষ থেকে গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতপ্রাপ্ত শান্তা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ ও মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহতের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বাসন থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের তদন্তাধীন হওয়ায় ২৩ জুলাই তদন্তভার গ্রহণ করেন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী।

পিবিআই জানায়, অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে একই দিন সকালে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে নিহত শান্তা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ, সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সন্দেহের কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেলের কক্ষে পূর্বের বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সাইফুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে শান্তা বেগমকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে আসামি নিহতের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রাইম সিন টিম এবং একটি বিশেষ তদন্ত দল মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার অন্যান্য দিকও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।